Books

টাইম ম্যানেজমেন্ট বই Pdf free Download

ইয়ের নাম – টাইম ম্যানেজমেন্ট (অনুবাদ)
বইয়ের লেখক – ব্রায়ান ট্রেসি
পৃষ্ঠা সংখ্যা – ১২৮
বইয়ের ধরণ – আত্নউন্নয়নমূলক বই
ব্যক্তিগত র্যাটিং – ৯/১০
রিভিউ – আফরান ইসলাম তরুন
পৃথিবীর সফল মানুষগুলো যতটুকু সময় পেয়েছিল আপনিও ঠিক সেই ২৪ ঘন্টা সময় প্রতিদিন পেয়ে থাকেন। এখন এই সময়কে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর দায়িত্ব আপনার হাতেই আছে!
বলা হয়ে থাকে,সময় ব্যবস্থাপনা মানে জীবন ব্যবস্থাপনা। তাই সময়কে কীভাবে উপযুক্তভাবে কাজে লাগাবেন,কোন সময়ে কোন কাজটি করবেন,কোন কাজটি আগে করলে বেশি কার্যকর হবে,নিজের কাজ কীভাবে অন্যকে দিয়ে করাতে পারবেন,যেকোনো কাজের জন্য কি কি মাইন্ডসেট রাখতে হবে ইত্যাদি সময় ব্যবস্থাপনা বিষয়ক খুঁটিনাটিগুলো বিস্তারিতভাবে জানতে চাইলে ‘ব্রায়ান ট্রেসি’র লেখা ‘টাইম ম্যানেজমেন্ট’ বইটি আপনাকে পড়তেই হবে!
আমরা যখন কোনো কাজ করি তখন সেই কাজকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করতে পারি। বইয়ে বলা হয়েছে,কার্যকারিতার চারটি ভাগ রয়েছে। যথাঃ
১. আকাঙ্ক্ষা
২. সিদ্ধান্ত
৩. শৃঙ্খলা
৪. সংকল্প
আমাদের যেকোনো কাজ এই ধাপগুলোর মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হয়। তাই কোনো কাজ করার আগে কাজগুলো উপরোক্ত চারটি অংশে ভাগ করলে সেই কাজের উদ্দেশ্য ও কার্যফল বেশি লাভজনক হবে।
কোনো কাজ শুরু করার আগে নিজেকে আপনি পজিটিভ ফিডব্যাক দিতে পারেন। যেমনঃ
“আমি একজন দক্ষ সময়নিষ্ঠ মানুষ”
তারপর নিজেকে প্রশ্ন করুন – কেন আমি এই কাজটি করবো? নিজেকে প্রশ্ন করুন – আপনি কী হতে চান?
অধিকাংশ মানুষ চাকরি/ব্যবসা অর্থাৎ টাকা,বাড়ি,গাড়ি,পরিবারের সাথে আনন্দে সময় কাটানো এই বিষয়গুলোকে নিজের লক্ষ্য হিসেবে খুঁজে নেয়। তাই আপনিও কোনো কাজ শুরু করার আগে নিজের জীবনের লক্ষ্য খুঁজে বের করুন।
কাজ শুরু করার পর ধীরভাবে চিন্তা করুন – আমি কী কাজটি করার চেষ্টা করছি? যদি উত্তর ‘হ্যা’ আসে,তাহলে আপনার কাজের অগ্রগতির দিকে খেয়াল রাখুন। আর উত্তর ‘না’ আসলে, প্রতিদিন ৩০ মিনিট সময় নিয়ে নিজের কাজের লক্ষ্য, পরিকল্পনা, অগ্রগতি এই বিষয়গুলো খাতায় বা নোটবুকে লিখে একটু ভাবুন,ধীর চিন্তা করুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন –
৫ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
নিজের মনকে বলুন, “আমি একজন সফল ব্যক্তি হবো।” লেখকের একটা কথা এমন ছিল, “যদি আপনি না জানেন আপনি কোথায় যাবেন তবে আপনি যেকোনো পথেই হাটঁতে পারেন।”
কোনো কাজ শুরু করার আগে লিখিত পরিকল্পনা তৈরি করুন। তারপর সেই পরিকল্পনা দেখে দেখে কাজটি আরোও কার্যকরভাবে করতে পারবেন। পরিকল্পনা তৈরি করতে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন_
• লক্ষ্য অর্জনে কী কী কাজ করতে হবে
• গুরুত্ব ও পর্যায়ক্রমে কাজগুলো সাজানো
• কাজগুলোতে কী কী সমস্যা বিদ্যমান
• কী কী দক্ষতা অর্জন করতে হবে
• কাজটি করতে কার কার সহযোগীতা দরকার
• এই কাজগুলোতে কোন কোন ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ
উপরোক্ত বিষয়গুলো আপনার পরিকল্পনার তালিকায় যুক্ত করলে যেকোনো কাজের সফলতা দেখতে পারবেন!
সময় ব্যবস্থাপনার আরেকটি হ্যাকস হচ্ছে প্রতিদিনকার কর্মতালিকা তৈরি করা। সেক্ষেত্রে রাতের বেলা ১২ মিনিট সময় হাতে নিয়ে দিনের ২৪ ঘন্টা কাজের একটি পূর্বপরিকল্পনা করতে পারেন। অবশ্যই গুরুত্ব অনুযায়ী কাজের তালিকা তৈরি করবেন। কাজের গুরুত্ব অনুযায়ী সেই কাজটির নাম্বার দিতে পারেন। নিচে গুরুত্ব অনুযায়ী নাম্বারিং এর তালিকা ও সেই কাজটির ডেডলাইন বুঝানো হয়েছে। যেমনঃ
১ – এই কাজগুলো করতেই হবে,
২ – এই কাজগুলো করলে ভালো,উচিত
৩ – যে কাজগুলো করা যায়,আনন্দদায়ক
৪ – এই কাজগুলো অন্যকে দিয়ে করানো
৫ – এসব কাজ থেকে দূরে থাকা
আমাদের পেশাজীবনের অন্তর্ঘাতী হচ্ছে সময়ের অপচয় করা। আর সেটার জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী। বলা হয়ে থাকে যে,সময়কে বিক্রি করা যায়! তাই অসময়ে কোন কাজগুলো করলে আপনার সত্যিকার সময় অপচয় হচ্ছে,সেগুলোর দিকেও মনোযোগ দিতে হবে। সেজন্য কী কী কাজ করবেন না,তার তালিকাও তৈরি করতে পারেন। এতে করে আপনার সময় আর শ্রম দুটোই অপচয় থেকে রক্ষা পাবে।
আপনাকে যদি কেউ কোনো কাজ করে দেয়ার জন্য বলে তখন আপনি কি করবেন? তাকে কীভাবে ম্যানেজ করবেন?
বিষয়টা বইটিতে লেখক উল্লেখ করেছেন। তিনি নিজে যেভাবে মানুষকে কাজের প্রস্তাবের উত্তর দিয়েছেন_
“আমাকে জিজ্ঞেস করার জন্য ধন্যবাদ। আমাকে একটু চিন্তা করার সময় দিন। আমি আমার কাজগুলো একটু দেখে নিই। তারপর আমি জানাচ্ছি।
আমি এবার কাজটি করতে পারছি না – আশা করি পরেরবার সহায়তা করতে পারবো।”
তো আপনিও এভাবে কাউকে কাজের ক্ষেত্রে ম্যানেজ করতে পারেন। কোনো কাজ না করতে চাইলে সেটা ব্যক্তিটিকে ভদ্রভাবে গুছিয়ে বলুন,সেই ব্যক্তিটি অবশ্যই বুঝবে আপনার কথা।
সময়কে আরোও কার্যকরভাবে ব্যবহার করার জন্য বইটির উল্লেখযোগ্য কিছু কথা_
• আমি এই কাজটা এখনই করবো
• মূল দক্ষতার জায়গা খুঁজে বের করুন
• অন্যের হাতে কাজ বুঝিয়ে দিন
• একই সাথে বহুকাজ করা এড়িয়ে চলুন
• একই ধরণের সব কাজ একত্রে করুন
• কাজের অপ্রত্যাশিত বাধা-বিপত্তি নিয়ন্ত্রণ করুন
• আপনার কাজের ক্ষেত্র সবসময় গুছিয়ে রাখুন
• আপনার সময়কে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নিন
বইটিতে আরোও দারূণ দারুণ সব হ্যাকস,ট্রিকস,সাইকোলজিক্যাল বিষয় উল্লেখ আছে। বইটি পড়ার পর আমিও সময় ব্যবস্থাপনা নিয়ে এখন বেশ সচেতন হয়েছি। যেকোনো কাজ আগের থেকে এখন আরোও বেশি প্রোডাক্টিভলি করতে পারি। বইটি পড়ে আপনিও উপকৃত হবেন। পাঠকের কাছে লেখকের জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে পড়ুক। ধন্যবাদ

 

টাইম ম্যানেজমেন্ট বই pdf Direct download link : –  Link :-1 | Link :-2 | Link :-3Link :-4Link :-5Link :-6

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!