Tips & Tricks

রমজানে ডায়াবেটিস রোগীর খাবার তালিকা + ওষুধ ব্যবস্থাপনা❤️

আমাদের দেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা অনেক, তাদের জন্য নিয়ে আসলাম রমজানে ডায়াবেটিস রোগীর খাবার তালিকা ও ওষুধ ব্যবস্থাপনা।Diet list for diabetics in Ramadan in bangla:

একজন ডায়াবেটিস রোগীর রমজানে করণীয়:
ডায়াবেটিস রোগী রমজানে সাধারণত তিনবার খাওয়া হয়। তা হলো-

  1. ইফতার,
  2. রাতের খাবার ও
  3. সেহেরী।

ডায়াবেটিক রোগীর রোজা রাখার সময় সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে খাদ্য ব্যবস্থাপনায়।

  • সেহরির খাবার সেহরির শেষ সময়ের অল্প কিছুক্ষণ আগে খাওয়া উচিত।
  • ইফতারের সময় অধিক পরিমাণে মিষ্টি ও চর্বি জাতীয় খাবার গ্রহণ না করা ভালো।

ইফতার: পাণিশুন্যতা রোধ এবং শরীরে বিভিন্ন ক্রিয়ার জন্য শরবত একটি অপরিহার্য পানীয়। বিকল্প চিনি দিয়ে ইসুবগুল, তোকমা, লিচু, কাঁচা আম কদবেল তেঁতুলের শরবত খাওয়া যেতে পারে। অথবা একটি কচি ডাব খাওয়া যেতে পারে। ইফতারের খাবারের পরিমাণ পরিমাণ হবে সকালের নাস্তার সমপরিমাণ।

ইফতারে ডায়াবেটিস রোগীরা সাধারণত যেভাবে ইফতার নিতে পারে তা হলো:

ক. ছোলা ভাজা – ১/২ কাপ,
খ. পেঁয়াজু -২ টা,
গ. বেগুনি – ২ টা,
ঘ. মুড়ি দেড় কাপ,
ঙ. খেজুর ১টা,
চ. শসা, গাজর ইত্যাদি ইচ্ছামতো,
ছ. পানি পরিমাণ পর্যাপ্ত।

একজন ডায়াবেটিস রোগী সন্ধ্যারাতে কি খাবেন:

ক. ডায়াবেটিস রোগীদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে, সন্ধ্যার খাবার একেবারেই বাদ দেওয়া উচিত নয়।
খ.অন্যান্য সময়ের রাতের খাবারের সমপরিমাণ হবে এ খাবার।
গ.সন্ধ্যারাতে ভাত খাওয়া যাবে। তবে প্রত্যেকেই নিজ নিজ বরাদ্দ অনুযায়ী খাবাারের পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
ঘ. সন্ধ্যারাতে হালকা মসলায় রান্না করা যে কোনো ছোট-বড় মাছ এবং সবজি থাকলে ভালো হয়।

সেহেরী খাওয়ার নিয়ম: ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে সেহরীর কিছু পূর্বে খাওয়া সেহেরী খাওয়ার উপযুক্ত সময়। এতে করে দিন শেষে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি কমবে।
ক.সেহরীতে রুটি অথবা ভাত পছন্দ অনুযায়ী গ্রহণ করা যাবে।
খ. সেহেরীতে খেতে হবে অন্যান্য দিনের দুপুরের খাবারের সমপরিমাণ খাবার।
গ.মাংসের পরিবর্তে ডিমও খাওয়া যেতে পারে।
ঘ.সেহরীতে এক কাপ দুধ খাওয়া যাবে।

রোজায় ডায়াবেটিসের ওষুধ ব্যবহারে পরিবর্তন

রোজা চলাকালীন ডায়াবেটিস ঔষধ খাওয়ানো-

  • * ইফতারের শুরুতে (রোজার ভাঙার সময়) ওষুধটি একটু কম করে খেতে পারেন। সকালের মাত্রাটি ইফতারের শুরুতে এবং রাতের মাত্রাটি অর্ধেক পরিমাণে সেহরির ২০-৩০ মিনিট আগে খেতে পারেন।
  • * ইফতারের পর মেটফরমিন ১০০০ মি. গ্রাম এবং সেহরির পর ভরা পেটে ৫০০ মি. গ্রাম খেতে পারেন
  • * ওষুধটি একই মাত্রায় রাতের যে কোনো সময়ে খেতে পারেন।
  • * ইফতারের শুরুতে, সন্ধ্যা রাতের খাবারের আগে অথবা সেহরির আগে সেবন করা যেতে পারে।
  • * ইফতারের আগে সকালের ডোজ অর্থাৎ ৩০ ইউনিট এবং সেহরির ২০/৩০ মিনিট আগে রাতের খাবারের ডোজের অর্ধেক অর্থাৎ ১০ ইউনিট নিতে হবে। ইতাফর করে নামাজে যাবেন।
  • * একই সময় ২০ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ কমিয়ে প্রথম তারাবির রাত থেকেই নিতে হবে। গ্লারজিন খাবারের আগে ও নেওয়া যায় পরেও নেওয়া যায়। তবে ২৪ ঘণ্টা পরপর নিতে হবে।
  • * ইফতারের আগে বোলাস ১০ ইউনিট + ব্যাসাল ১০ ইউনিট এবং সেহরির আগে অর্ধেক ডোজ অর্থ্যাৎ বোলাস ৫ ইফনিট+ব্যাসাল ৫ ইউনিট তিনে পারেন। ইফতারের আগে বোলাস ২০ ইউনিট এবং সেহরির আগে অর্ধেক ডোজ অর্থ্যাৎ বোলাস ৫ ইফনিট+ব্যাসাল ৫ ইউনিট নিতে পারেন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!