Books

ড. মরিস বুকাইলি বই Pdf Download All – Morris bukai book pdf bangla

doctor Morris bukai book pdf bangla free download link || বাইবেল কুরআন ও বিজ্ঞান pdf || বাইবেল কোরআন ও বিজ্ঞান আখতার উল আলম pdf

বাইবেল কোরআন ও বিজ্ঞান ড. মরিস বুকাইলি বই pdf || কোরআন বাইবেল বেদ ও বিজ্ঞান pdf download

Click Here to Download

 

প্রারম্ভিকাঃ
মানুষ সৃষ্টির সেরাজীব। সমস্ত সৃষ্টিকূলের উপর মানুষকে এই শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা। মেহেরবান আল্লাহ সুন্দর দৈহিক গঠন আর অসাধারণ বিবেক বুদ্ধি প্রদান করে মানুষকে অনন্য মর্যাদার আসনে আসীন করেছেন। মানুষের শিরে শোভা পাওয়া শ্রেষ্ঠত্বের এই মুকুট দানের পেছনে মহামহিমের রয়েছে বিরাট উদ্দেশ্য। আর সেটি হলো মানুষ তার পুরো জিন্দেগী কাটাবে একমাত্র সত্তা আল্লাহ তা’আলার ইবাদত করে। মহান রব তাঁর এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্যই একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মানবজাতিকে দুনিয়ার বুকে বিচরণের সুযোগ দিয়েছেন। আবার অচেনা দুনিয়ায় চলতে গিয়ে মানুষ যেন পথ হারিয়ে না ফেলে তার জন্য যুগে যুগে প্রেরণ করেছেন বহু পথ-প্রদর্শক, ইসলামি পরিভাষায় তাদের বলা হয় নবি-রাসূল।

প্রত্যেক নবি-রাসূলই ছিলেন মানবজাতির শিক্ষক। আর তাদের শিক্ষার উপকরণ ছিল আসমানি গ্রন্থসমূহ যার প্রতিটি বাণী স্বয়ং আসমানের অধিপতির। যাবূর, তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআন তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। জীবনে চলার পথের নির্দেশিকা হিশেবে মানুষ আসমানি কিতাবসমূহের অনুসরণ কিছুকাল করলেও একসময় নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির অসৎ প্রয়াসে আল্লাহর কিতাবে আনে আমূল পরিবর্তন, আদেশ-নিষেধে করে ব্যাপক সংযোজন-বিয়োজন। কিন্তু ব্যতিক্রম শুধু কুরআনুল কারীম। এখনো পর্যন্ত এই কিতাবের বিন্দু-বিসর্গ পরিবর্তন হয় নি। প্রায় সাড়ে চৌদ্দশ বছর আগে একজন সম্মানিত বাণী বাহকের দ্বারা আগত আল্লাহর বাণীসমূহ বর্তমানে হুবুহু এক রয়ে গেছে। কিন্তু কীভাবে তা সম্ভব হলো?

এই কি এবং কেনোর উত্তর দেয়া হয়েছে “বাইবেল,কুরআন ও বিজ্ঞান” বইটিতে। যাবূর,তাওরাত, ইঞ্জিল আল্লাহর কিতাব হওয়া সত্ত্বেও কেনো বিকৃত হলো আর কুরআনুল কারীম কেন এখনো অপরিবর্তিত তার ইতিহাস এই বইয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সেইসাথে বাইবেলের সাথে বিজ্ঞানের, বিজ্ঞানের সাথে কুরআনের এবং বাইবেল ও কুরআন এ দুটি আসমানীগ্রন্থের উপর পারস্পরিক তুলনা ও গভীর পর্যালোচনা করা হয়েছে এই বইতে।

বইটির আলোচ্য বিষয়ঃ

বইয়ে একটা বিষয়ের শুধু একটি দিকের উপরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। বইটির আলোচ্য বিষয় হলো আধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্যজ্ঞানের আলোকে আসমানী কিতাব বলে পরিচিত ধর্মগ্রন্থসমূহের বক্তব্যের সঠিকত্ব যাচাইকরণ। এক্ষেত্রে লেখক আলোচনার সুবিধার্থে বইকে চার ভাগে বিভক্ত করেছেন। যথাঃ

★ বাইবেল আলোচনা
★ কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান
★ কুরআন ও বাইবেল
★কুরআন,হাদিস ও আধুনিক বিজ্ঞান

★বাইবেল আলোচনাঃ
এ অধ্যায়ের প্রারম্ভে বাইবেল সম্পর্কে সাধারণ আলোচনা করার পর বাইবেলের পুরাতন নিয়মের সাথে বিজ্ঞানের পারস্পরিক তুলনা করা হয়। বাইবেলের পুরাতন নিয়মকে বিজ্ঞান দ্বারা পরিক্ষা করে লেখক ‘ওল্ড টেস্টামেন্টে’ এমন সব বক্তব্য খুঁজে পান যা আধুনিক বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত সত্যের সম্পূর্ণ বিপরীত।
পুরাতন নিয়মের আলোচনা শেষে লেখক নতুন নিয়মের চারটি সুসমাচার নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করেন। আলোচনার ফলে সুসমাচারের মধ্যকার পরস্পর স্ব-বিরোধী বক্তব্য পাঠকের সামনে উন্মুক্ত হয়। এ অধ্যায়ে বাইবেল সম্পাদনায় মানুষের যথেচ্ছভাবে কলম চালনার ন্যক্কারজনক ইতিহাসেরও উল্লেখ করা হয়েছে।

★কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞানঃ
এ অধ্যায়ে কুরআনের সাথে বিজ্ঞানের পারস্পরিক তুলনা করা হয়েছে। কুরআন নিয়ে গবেষণা করে দেখা গেছে যে বিজ্ঞানের সাথে কুরআনের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। গবেষণার ফলাফলে স্পষ্ট হয়েছে যে, কুরআনে বিজ্ঞানসংক্রান্ত বক্তব্য কিছুমাত্র কম নয় বরং অধিক এবং এর কোনটা বিজ্ঞানের ইস্পাতকঠিন সত্যের বিরোধী নয়। এছাড়াও অধ্যায়ে কুরআন সংকলনের সুদীর্ঘ ইতিহাস, কুরআনের সঠিকত্বের রহস্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

★কুরআন ও বাইবেলঃ
এ অধ্যায়ে বাইবেল ও কুরআনের পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ বক্তব্য নিয়ে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বিচার-বিশ্লেষণে এটি প্রতীয়মান হয়েছে যে, কুরআনের বক্তব্য বৈজ্ঞানিক সত্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আর বাইবেলের বক্তব্য আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে সাংঘর্ষিক। কুরআনের ভাষার নির্ভুলতা ও বাইবেলের ভাষার মাঝের অসঙ্গতিও এ অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে।

★কুরআন, হাদিস ও আধুনিক বিজ্ঞানঃ বিজ্ঞানের কষ্টিপাথরে যাচাই করে লেখক কুরআনকে নির্ভুল বলে স্বীকার করলেও হাদিসের ব্যাপারে তেমন স্বীকৃতি দেন নি। বরং লেখক অধ্যায়ে হাদিসের কিছু কিছু বক্তব্যকে বৈজ্ঞানিক দিক থেকে অগ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

ড মরিস বুকাইলির বই নিয়ে আমার অনুভূতি ও রিভিউ

সাধারণত অমুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে ইসলাম নিয়ে নানা ভ্রান্তপূর্ণ ধারণার প্রচলন থাকে, সেসব দেশের মানুষের কুরআন সম্পর্কে ধারণা থাকে যৎসামান্য, বেশিরভাগই ডুবে থাকে অজ্ঞানতার সাগরে। রাষ্ট্রীয়ভাবেও সেসব দেশে কুরআনের কোনো স্বীকৃতি থাকে না, কোনো কোনো দেশে কুরআনকে ঐশী প্রত্যাদেশপ্রাপ্ত বাণী হিসেবেই মানা হয় না, সেসব দেশে কুরআনের একটি কপি খুঁজে বের করা দুষ্কর, আর কুরআন নিয়ে গবেষণা তো প্রায় অসম্ভব। কিন্তু এক্ষেত্রে ব্যতিক্রমধর্মী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ফরাসি গবেষক ড. মরিস বুকাইলি। কুরআন বিরুদ্ধ পরিবেশে বড় হয়েও তিনি দেখিয়েছেন কুরআনের প্রতি আগ্রহ। স্রোতের বিপরীতে গিয়ে করেছেন সে কিতাব নিয়ে গবেষণা। তাই বই পড়ার প্রথমেই লেখজের কুরআনের প্রতি অদম্য আগ্রহের বিষয়টি আমার হৃদয়ের অন্তঃস্থানে ভালো লাগার সৃষ্টি করেছে।
.
দ্বিতীয় যে বিষয়টি আমার ভালো লেগেছে তা হলো বই রচনার ক্ষেত্রে লেখকের নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি। বইটি রচনার ক্ষেত্রে ড.মরিস বুকাইলির লেখক সত্তার কোথাও পক্ষপাতিত্বের ছাপ পরিলক্ষিত হয় নি। লেখক যথাসম্ভব বাইবেল প্রীতি ত্যাগ করেছেন অন্যদিকে কুরআন সম্পর্কে নানা সংশয় থাকা স্বত্বেও কোনো ধরনের বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব তিনি পোষণ করেন নি। এমন উদারনীতির জন্য লেখক অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার।
.
তৃতীয় যে বিষয়টি আমাকে ভাবিয়েছে তা হলো খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী কিছু মানুষের অসৎ মনোবৃত্তি। আল্লাহ তা’আলার নিরেট বাণীর উপর কলম চালানোর অসৎ প্রচেষ্টা, কলুষপূর্ণ মনের ভ্রান্ত কথা দ্বারা বাইবেলকে অপবিত্র করার বিকৃতি মানসিকতা আমাকে ব্যথিত করেছে। বাইবেল অধ্যায়ে এমন ন্যাক্কারজনক কাজের সবিস্তার বিবরণ পড়ে আমি তাদের পরিণতির কথা ভেবে শিউরে উঠেছি ক্ষণে ক্ষণে। বাইবেলে সংযোজিত মানুষের কিছু অবাস্তব বক্তব্য পড়ে আবার মাঝে মাঝে নির্মল আনন্দও পেয়েছি, সেইসাথে তাদের মতো নির্বোধ ও সীমালঙ্ঘনকারী হয়ে যাওয়া থেকে রবের কাছে বারবার আশ্রয় প্রার্থনা করেছি।
.
চতুর্থ বইয়ের যে বিষয়টি আমার হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে তা হলো, কুরআনের সাথে বিজ্ঞানের বিস্ময়কর সম্পর্ক। এতকালযাবৎ মানুষের ধারণা ছিল বিজ্ঞানশাস্ত্রের সাথে ধর্মশাস্ত্রের সম্পর্ক সাপে-নেউলে। কিন্তু মরিস বুকাইলির মতো গুণী মানুষ সেই ধারণাকে স্পষ্ট ভুল প্রমাণ করে বলেছেন, ‘ কুরআনের সাথে বিজ্ঞানের সম্পর্ক যময বোনের মতো’। অর্থাৎ দুটির মাঝে পরস্পর কোনো বিরোধ নেই বরং রয়েছে অদ্ভুদ মিল। কুরআনের সাথে বিজ্ঞানের এমন সুসম্পর্ক, কুরআনের রূপকাশ্রয়ী সরল-সহজ বাণীর মাঝে বিজ্ঞানের নিগূঢ় তথ্যের সন্ধান পেয়ে যারপরনাই আমি বিস্মিত হয়েছে। বারেবারে কৃতজ্ঞ হয়ে রবের মহিমার গুনগান করেছি আর প্রার্থনা করেছি কুরআন নিয়ে ভাবার তৌফিক যেন তিনি আমাকেও দেন।
.
এছাড়া অনুবাদের প্রাঞ্জল ভাষা বইটিকে আমার নিকট আরও অধিক সুখপাঠ্য করেছে।

বইটি কাদের জন্যঃ

স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাসী আর স্রষ্টার অস্তিত্বে সন্দেহপোষণকারী উভয় শ্রেণির লোকের জন্য এ বইটি চিন্তার খোরাক হিশেবে কাজ করবে। বিজ্ঞানমনষ্ক ধর্মনিরপেক্ষ মানুষ যেমন এ বইটি পড়ে উপকার পাবে তেমনি ধর্মকে অবলম্বন করে বাঁচা সরল মানুষও এ বইয়ের পাঠ গ্রহণ করে সবিশেষ উপকৃত হবেন। এক কথায় সত্যের সন্ধান করতে ভালোবাসেন এমনসব কৌতুহলী মানুষের জন্যই এই বই।

ড মরিস বুকাইলির জীবনী – লেখক পরিচিতিঃ

জন্মঃ ১৯ জুলাই, ১৯২০
মৃত্যুঃ ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৮

পেশাঃ একজন ফরাসি চিকিৎসাবিদ। একই সাথে ছিলেন মিশরতত্ত্ব এর ফরাসি সোসাইটির সদস্য ও একজন লেখক। তিনি ফেরাউনের মমির উপত ফরাসি অধ্যয়নের সিনিয়র সার্জন ছিলেন।

অনুবাদক পরিচিতিঃ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, দৈনিক ইত্তেফাক,ঢাকা।

 

শেষ কথাঃ

পৃথিবীতে মানুষের আগমন ঘটেছে মিথ্যার আঁধার ফেঁড়ে সত্যের আলোকে প্রতিফলিত করার জন্য, মিথ্যের কুয়াশায় অস্পষ্ট হয়ে যাওয়া সত্যকে উন্মুক্ত করার জন্য, মিথ্যের কারাগার থেকে সত্যকে উদ্ধার করার জন্য। যুগে যুগে মানুষ এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। সময়,মেধা,শ্রম ইত্যাদি ব্যয় করেছে সেইসাথে অনেকে জীবন পর্যন্ত বিসর্জন দিয়েছেন। তবুও মিথ্যের চোরাবালিতে আটকে থাকাকে সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ অপছন্দ করেছে সর্বদা। সত্যের পেছনে মানুষের এই নিরন্তর ছুটে চলা এখনো অব্যাহত আছে, সত্যে অনুসন্ধানের অভিযানে কেউ হয়েছেন সফল আবার কেউ হয়েছেন বিফল। আবার কেউ মাঝপথে থেকে তাদের অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন অবিরত। ড.মরিস বুকাইলি তেমনি একজন সত্যাশ্রয়ী মানুষ। জীবন সফরের মাঝপথে এসে সত্যকে দেখার তীব্র ইচ্ছা জাগে তার। সেইথেকে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে সন্ধান করেন সত্যের আর একসময় পেয়ে যান পরম সুন্দর সেই সত্যের দেখা। নির্ভেজাল সত্যের সোহবত পেয়ে পাল্টে ফেলেন নিজেকে আর স্বেচ্ছায় পান করেন হেদায়েতের অমীয় শরাব। যে বই রচনা করে ড. মরিস বুকাইলি হেদায়েতের দিশা খুঁজে পেয়েছেন সে বই পাঠ করে আপনিও পেতে পারেন হেদায়েতের দিশা, চুমুক বসানোর সুযোগ পেতে পারেন হেদায়েতের পেয়ালায়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!